1. mti.robin8@gmail.com : Touhidul islam Robin : Touhidul islam Robin
  2. newsnakshibarta24@gmail.com : Mozammel Alam : Mozammel Alam
  3. nakshibartanews24@gmail.com : nakshibarta24 :
মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনার ক্রান্তিকালে এবারের ঈদ!

  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ২৩ মে, ২০২০
  • ৩৯২ জন পড়েছেন

মুহা: জাকির হোসাইন :
সমগ্র পৃথিবীর মানুষ যখন করোনা ভাইরাসের আক্রমনে ভীত সন্ত্রস্ত, শোকাহত, এমনি দূর্যোগময় মূহুর্তে আল্লাহর অপার অনুগ্রহে মাহে রমজানের শুভাগমন। রহমত-মাগফিরাত ও নাজাতের মহিমায় গৌরবান্বিত এ মাহে রহমানের সমাপ্তি লগ্নে “ঈদুল ফিতর” অত্যাসন্ন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সকলকে জানাই- ঈদের শুভেচ্ছ; ঈদ মোবারক।

* ঈদ বলতে কি বোঝায়?
মুসলিম উম্মাহর প্রাপ্ত-অপ্রাপ্ত প্রায় সকলেই জানে ঈদমানে খুশী। মাহে রমজানের পরবর্তী শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদ। আর জিলহাজ্জ মাসের দশম তারিখ হচ্ছে ঈদুল আযহা। এ দুই ঈদে আনন্দ উপভোগ করার জন্য কুরআন-সুন্নাহর দিক নির্দেশনা রয়েছে। যেমন: কুরআন মাজিদের সূরা আরাফের এর ৩১নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে আদম সন্তানগণ, তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজ-সজ্জা (পোষাক) পরিধান করে নাও, খাও এবং পান কর অপচয় করো না। নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করে না।”
অপর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরন করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে। (সূরা আল হাক্কাহ-২৪)
হাদিসে উল্লেখ রয়েছে: হযরত বুরাইদা (রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) ঈদুল ফিতরের দিনে খাদ্য গ্রহণ না করে বের হতেন না। আর ঈদুল আযহার দিনে ঈদের নমাাজের আগে কিছু খেতেন না। ঈদের নামায হতে ফিরে এসে তাঁর কুরবানীর পশুর গোশত থেকে ভক্ষন করতেন। (তিরমিযি)

* ঈদুল ফিতরের তাৎপর্যঃ
মুসলমানদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত দু’টি আনন্দের দিন হলো- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। ঈদুল ফিতর রমজানের শেষে আসে। মুসলিম জাতি দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এ ঈদ উদ্যাপন করে। ঈদুল ফিতর সম্পর্কে বলা হয়েছে- Eidul Fitr is the greatest religious festibal of Muslims. They observed it after Ramadan. অর্থ্যাৎ ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। যা তারা রমজান মাসের পরে উদপান করে। রমজানের পরে ঈদ হওয়ার কারণে এর গুরুত্ব অপরীসীম। রমজানের গুরুত্বের কারনেই এর সর্বাধিক মূল্যায়ন। রমজান সম্পর্কে বলা হয় যে, Holy Ramadan is self purification, self judgment and self analysis.
রমজানের রোজা মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, আত্ববিবেচনা এবং আত্বউপলব্ধির অপূর্ব সুযোগ। তাই বলা যায় যে, ধনী-গরিবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের সেতু-বন্ধনই হচ্ছে রমজান এবং তৎপরবর্তী ঈদুল ফিতর।
* ঈদের করণীয় ও বর্জনীয়ঃ
ঈদে হালাল উপাদেয় খাবার ও পানীয় গ্রহণ করার জন্য ইসলাম অনুপ্রেরণা দেয়া হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন হাদিসে ঈদের দিন শরীরচর্চা ও বিনোদনের জন্য খেলাধূলা ও আনন্দ উপভোগের জন্য রাসুল (সাঃ) উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বিনোদনের নামে বেহায়াপনা সমাজকে গ্রাস করেছে। ঈদ উপলক্ষে বেড়ানোর নামে আমাদের মেয়েরা অর্ধউলঙ্গ হয়ে দেহ, পোষাক ও অলংকার প্রদর্শন করে যা শরীয়ত সম্মত নয়। তারা বেড়াতে কিংবা বাইরে গেলে তাদের দেহ আবৃত তথা মাথা, চুল, গলা, ঘাঢ় ঢেকে যেতে হবে। অন্যথায় তা কবীরা গুণাহে লিপ্ত হওয়ার মধ্যে গণ্য হবে। আমাদের আধুনিক হতে হবে। তাবে অধ্যাধুনিকতার নামে অপসংস্কৃতিতে লিপ্ত হওয়া যাবে না। ফলশ্রুতিতে আমাদের উপর মহামারীর ন্যায় গজব আসতে পারে।
* ঈদ কার জন্য?
সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায় যে, Eidul Fitr is for those who obeyed the commandment of Allah during Ramadan. অর্থ্যাৎ যারা রমজান মাসে আল্লাহর নির্দেশ তথা রোজা পালন করেছে তাদের জন্যই ঈদুল ফিতর। তাছাড়া অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক, রোজা রাখতে অক্ষম এদের জন্য এ ঈদ যথাযথ। সক্ষম ব্যক্তি রোজা না রেখে ঈদ উদযাপন করা মানে নিজের সাথে নিজে প্রতারণা বৈ আর কিছু নয়।

* এবারের ঈদুল ফিতরঃ
বর্তমান বিশ্ব করোনা মহামারীতে আতঙ্কগ্রস্থ। ঈদের খুশী পূর্ববর্তী বছর গুলোর চেয়ে কিছুটা ম্লান। উদাহরণ হিসেবে বলতে গেলে কোন বাড়ীতে একজনের মৃত্যু, অপরজনের জন্ম। এমতাবস্থায় শোক ও আনন্দের সাংঘর্ষিক অবস্থায় বাড়ীর অধিবাসীরা অনেকটা নির্বাক থাকে। তেমনি এবারের ঈদে পরিবেশ খুব আনন্দে মুখরিত হবে না। তথাপিও সংক্ষিপ্ত পরিসরে এবারের করোনা ক্রান্তিকালের ঈদ উদযাপিত হবে। ইনশা আল্লাহ।

* রমজান ও ঈদ উপলক্ষে বিত্তবানদের করণীয়ঃ
লকডাউনের কারণে সমগ্রবিশ্বে কর্মজীবিদের ইনকাম অনেকটা স্থবির। তাছাড়া সমাজের নিম্নবিত্ত “হ্যান্ড টু মাউথ” অর্থ্যাৎ দিন আনে দিন খায় তাদের অবস্থা শোচনীয়। তারা এখন অন্যের কাচে হাত পাতছে। আর মধ্যবিত্তরা লজ্জায় অন্যের কাছে কিছু চাইতে পারছে না। কিন্তু পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এমতাবস্থায় উচ্চবিত্ত বা বিত্তবানদের আয় কমে গেলেও পূর্বের চেয়ে বেশী সহায়তা নিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ।
করোনার এ যুগ সন্ধিক্ষনের ঈদে বঞ্চিত, হত-দরিদ্র এবং সম্ভ্রান্ত অভাবিদের জন্য দানের সম্প্রসারিত হস্ত নিয়ে দন্ডায়মান হয়েছেন, দক্ষিণ কুমিল্লার কিংবদন্তি, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম মহোদয়। তিনি হতদরিদ্র জন গোষ্ঠী ও অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং জাতির বিবেক ইমাম-মুয়াজ্জিন ও সাংবাদিকদের প্রনোদনা দিয়ে যাচ্ছেন। এমনিভাবে বৃহত্তর লাকসামের আরেক ধ্রুব জ্যোতি, এশিয়ার আলোকিত ব্যক্তিত্ব, কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিন ও নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস) এফসিএ. এমপি মহোদয় দুস্থ মানুষদের সার্বিক সহায়তা এবং সর্বস্তরের জনগনকে উদ্দিপনা দিয়ে যাচ্ছেন। উল্লিখিত দুই মহান ব্যক্তিত্ব তাঁদের কৃত কর্মের জন্য দেশের রোলমডেল বা অনুকরণীয় আদর্শ হয়েছেন। তাঁদের পদাংক অনুস্বরণ করে আমাদের সকলকে আত্মমানবতার সেবা, দেশ গড়া এবং দ্বীনি কর্মকান্ডে এগিয়ে আসতে হবে।

পরিশেষে মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে মুছিবত থেকে হেফাজত করেন এবং ইহ-পরকালে সফল করেন। আমীন!

লেখকঃ কলামিষ্ট ও গবেষক।

খবরটি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

বিজ্ঞাপন

Laksam Online Shop

first online shop in Laksam

© All rights reserved ©nakshibarta24.com
কারিগরি সহায়তায় বিডি আইটি হোম