1. mti.robin8@gmail.com : Touhidul islam Robin : Touhidul islam Robin
  2. newsnakshibarta24@gmail.com : Mozammel Alam : Mozammel Alam
  3. nakshibartanews24@gmail.com : nakshibarta24 :
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাহে রমজানের মহিমায় উজ্জীবিত হই; চর্চা করি দৈনন্দিন জীবনে ধর্মীয় অনুভূতি

  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ৩ মে, ২০২১
  • ৪৯০ জন পড়েছেন

মুহাঃ জাকির হোসাইন
এম.এম.এম.এ (এম.ফিল গবেষক)


দৈনন্দিন জীবনে ধর্মীয় অনুভূতির গুরুত্ব :
জ্ঞান তথা মনুষত্বের কারণে মানুষ সৃষ্টিকূলে শ্রেষ্ঠ। আর মনুষত্ব আসে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে। ধর্মহীন মানুষ শ্রেষ্ঠ হতে পারেনা। ধর্মহীন মানুষ পশু কিংবা তার চেয়েও অধম। আল্লাহ তা‘আলা আল কুরআনের সূরা আত-ত্বীনে বলেন, “আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দতম গঠনে, অতঃপর আমি তাকে হীনতাগ্রস্থদের হীনতমে পরিনত করি। কিন্তু তাদের নয় যারা বিশ্বাসী এবং সৎকর্মপরায়ণ, তাদের জন্যতো রয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন পুরস্কার”। (আল কুরআন, সূরা: আত-ত্বীন, ৯৫:০৪-০৮)
ইংরেজেিত একটি অতীব গুরত্বপূর্ণ প্রবাদ রয়েছে- Wher  there  is  a  man  there  is  a  religion,  a man  can`t  live  without  religion. অর্থাৎ ‘যেখানে রয়েছে মানুষ, সেখানে রয়েছে ধর্ম। মানুষ ধর্মহীন জীবন যাপন করতে পারেনা।’
প্রত্যেক ধর্মই মানুষকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবন যাপনের দিক নির্দেশনা দেয়। ধর্ম মানুষকে নিয়ন্ত্রন করে আর সংস্কৃতি সভ্য হতে শেখায়। বাস্তবতার নিরীখে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ভারতের অধিকাংশ নাটক-সিনেমায় সনাতন হিন্দু ধর্মের চর্চা হয়। পরিতাপের বিষয় যে, আমরা মুসলমান বলে দাবি করা শর্তেও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করছিনা। যারফলে আজ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে যা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাহলো- বৈশম্য, কটাক্ষ, ঈর্ষা কাতরতা, বেহায়াপনা সর্বপোরি বর্বরতা।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানব জাতিকে তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি মানুষ ও জিনকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” (আল-কুরআন: সূরা আয-যারিয়াত, ৫১:৫৬)। মুসলমানের প্রতিটি কথা ও কাজ হতে হবে আল্লাহর যিকিরের সাথে। তাহলে তা ইবাদত হিসেবে পরিগণিত হবে। এ দৃষ্টি কোনে যিকির বা ইবাদতকে তিন পর্যায়ে অন্তর্র্ভূক্ত করা যায়। যথা: কথা, কাজ ও চিন্তা-গবেষণা ।
প্রাত্যহিক জীবনে আমরা সহজে যে সকল যিকির করে সাওয়াবের অধিকারী হতে পারি তার কতিপয় নিম্মে উল্লেখ করা হলো-
*কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’।
* সাক্ষাতে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
* সালামের জবাবে ওয়া আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু।
*ভবিষ্যতে কোন কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করলে ‘ইনশা আল্লাহ’।
*আল্লাহর অনুপম সৃষ্টি সম্পর্কে অবহিত হলে ‘সুবহানাল্লাহ’।
*আল্লাহর মহত্ব বা ক্ষমতা সম্পর্কে জানলে ‘আল্লাহু আকবার’।
*ধন্যবাদ জ্ঞাপনে ‘জাযাকাল্লাহ’।
*কৃতজ্ঞতা বা উদ্দিপনা প্রদানে ‘মাশা আল্লাহ’।
*নির্ভরতা প্রকাশে ‘তাওয়াক্কালতু আ‘লাল্লাহ’।
*বিদায় কালে নিরাপত্তা কামনায় ‘ফি আমানিল্লাহ’।
*অপরাধ করে ফেললে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’।
*দুঃসংবাদ কিংবা ভুলে গেলে ‘ইন্নালিল্লাহ’।
*হাঁচি দিলে ‘আল হামদুলিল্লাহ’।
*হাঁচি দাতার উত্তরে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’।
*বিতাড়িত শয়তানের প্ররোচনা হতে মুক্তি পেতে ‘আউযুবিল্লাহ’।
*নাফরমানি কিংবা আজাবের কথা শুনলে ‘নাউযু বিল্লাহ’।
এ ছাড়াও হাদিসর আলোকে আরও যিকির রয়েছে, যা অবস্থা অনুসারে আমরা পাঠ করতে পারি। তাছাড়া আমরা স্বাভাবিক কাজে (ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি কাজ, দাপ্তরিক কাজ, কল-কারখানায় শ্রমের কাজ, ড্রাইভিং ও অন্যান্য কাজে) এবং বিশ্রাম ও ঘুমাতে গেলে তখনও যিকির করতে পারি। যেমন: ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদু ল্লিাহ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সুবহাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযিম, সুবহানাল্লাহিল আযিম ওয়া বিহামদিহি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার’ এ যিকিরসমুহ।
এবার কাজের কথা বললে ইসলামের মৌলিক বিষয় ঈমান ও ঈমানের দাবিকে বুঝায়। যেমন: নামায, রোজা, হজ্জ, যাকাত ও জন কল্যাণকর কাজ, সুশিক্ষা, সুস্থ সংস্কৃতি এবং ন্যায় বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ইত্যাদিকে বুঝায়। এ কাজগুলো ব্যক্তির অবস্থা ও সাধ্যের আলোকে আবশ্যক হয়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে অন্তর্ভূক্ত হও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করোনা। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।”(আল কুরআন, সূরা:আল-বাক্বরা, ০২:২০৮)
অত:পর চিন্তাগত যিকির বা ইবাদত বলতে বুঝায় ভালো কাজ করার অভিপ্রায়। সুদ, ঘুষ, যুলুম, রাহাজানী, খুন-খারাবী অশ্লীলতা, কুফুরি, মুনাফিকি, ফাসিকি, শিরক-বিদআত হতে বিরত থাকা এবং চিন্তা-গবেষণা করে আলোচনা ও লেখনির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র হতে তা প্রতিরোধের উদ্যোগ চিন্তাগত ইবাদতের অন্তর্ভূক্ত।
মুসলিম উম্মাহর কথা, কাজ ও চিন্তা-চেতনায় ধর্মীয় অনুভূতি থাকা ঈমানের দাবি। আসুন মাহে রমজানের এ শুভক্ষণে আমরা সিয়ামের মহিমায় উজ্জীবিত হই; চর্চা করি দৈনন্দিন জীবনে ধর্মীয় অনুভূতি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সর্বদা তাঁর দ্বীন; ইসলামের উপর অবিচল থাকার তাওফিক দিন। আমীন।

লেখক:
উপাধ্যক্ষ: বাংগড্ডা ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।
০১৭২৪-০২৩০০৪

খবরটি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

বিজ্ঞাপন

Laksam Online Shop

first online shop in Laksam

© All rights reserved ©nakshibarta24.com
কারিগরি সহায়তায় বিডি আইটি হোম