1. mti.robin8@gmail.com : Touhidul islam Robin : Touhidul islam Robin
  2. newsnakshibarta24@gmail.com : Mozammel Alam : Mozammel Alam
  3. nakshibartanews24@gmail.com : nakshibarta24 :
রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা

  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০
  • ৩৭৭ জন পড়েছেন

নকশী বার্তা  : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় শক্তি ছিল তার জনগণ, সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ রচনার একপর্যায়ে লিখেছেন, ‘মানুষ স্বার্থের জন্য অন্ধ হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেছিলেন, সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ চাই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল দুর্নীতিবাজরা। ঠিক যুদ্ধোত্তরকালেও জনগণকে নিয়েই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করার কথা বলেছিলেন।

জাতির পিতার আদর্শ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট তাঁকে হত্যা করে মুছে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়। তখন এই বাংলাদেশটিই আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম। পরে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে জাতির পিতার দর্শন আর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। আমাদের লক্ষ্য, এই দেশকে আমরা একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী ও ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা পালন করব। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশ। আওয়ামী লীগের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী ইশতেহারে যে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, তার অন্যতম দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত।

বঙ্গবন্ধুকন্যার স্বপ্ন একটি সুখী-সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু তার এ লক্ষ্যে দুর্নীতি এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজদের জন্য শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রার পথে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ‘চাটার দলের’ কথা বলেছিলেন, তারা এখন সংখ্যায় শতগুণ। এরাই অশুভ শক্তি এবং বাংলাদেশকে গ্রাস করছে, গ্রাস করছে দেশের অসহায় জনগণকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর হয়েছেন। সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অপরাধীদের মূলোৎপাটন করতে হবে। যারা আজ আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতি করে কালো টাকার পাহাড় গড়ছে, তারা কখনও দলের জন্য শুভ হতে পারে না। শেখ হাসিনা দলের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যেভাবে অবস্থান নিয়েছেন, অতীতে বাংলাদেশে এমন আর নজির নেই। দেশকে এই সমস্যা থেকে রক্ষা করতে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এগিয়ে নিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে সফল হবেন।

আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বার্থ ও নিঃস্বার্থের দ্বন্দ্ব চলছে; তবে নতুন কিছু নয়। এই দ্বন্দ্ব সমাজে সর্বত্র বিদ্যমান ও তা যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। এই স্বার্থ রাজনীতি মোকাবিলা করে বাংলাদেশের সমাজের জন্য একটি বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়তে বঙ্গবন্ধু জীবনভর সংগ্রাম করেছেন। রাজনীতি ও দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার উপলব্ধি এবং কার্যক্রমে এটি প্রমাণিত হয় যে, তিনি তার নিঃস্বার্থ চেতনায় আপসহীন, যা পেয়েছিলেন তার পিতার কাছ থেকে। এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, ‘যদি আমরা এই অন্যায়ের প্রতিকার না করি, তাহলে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি হবে।’ রাজনৈতিক সংগঠনের কাঠামোর মধ্যেই দুর্নীতি করে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার চিন্তা ঢুকে গেছে। এরা সুবিধাবাদী। নিজের আখের গোছানোর জন্য এরা দলের ছাতার নিচে ভিড় করছে। দলের নেতাদের মধ্যে যারা ধৈর্যশীল, যারা আবেগী, আজন্ম যারা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবেসেছে, তারা আজ সংগঠনে কোণঠাসা হয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশে এক শ্রেণির রাজনীতিবিদ আছে, যারা আদর্শভিতিক রাজনীতি করে না, ক্ষমতা ও অর্থবান হওয়ার জন্য রাজনীতি করে। রাজনীতিতে তাদের পদ-পদায়ন হলে রাজনীতি কলুষিত হবে, সমাজ-রাষ্ট্র এবং জাতির ভবিষ্যৎ হবে অন্ধকার। যে সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব বিতর্কের মুখে পড়েছে বা বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে, এখন এই সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল করে নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগ- এই চারটি সংগঠনের কাউন্সিল হয়েছে গত নভেম্বরে। ক্লিন ইমেজ যাদের তাদেরই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত বা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। দেশের মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। এ মুহূর্তে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্যই আজ আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের থেকে আওয়াজ এসেছে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত নেতৃত্ব চাই, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলে সব সংগ্রামে জনগণ থাকবে শেখ হাসিনার পাশে। আওয়ামী লীগের ২১তম কাউন্সিল অধিবেশনে দলের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজ, ক্ষমতার অপব্যহারকারী আর সন্ত্রাসের মদদদাতাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।

দুর্নীতি দূর করতে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সন্ত্রাসী, অসৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আমলাতন্ত্র হচ্ছে দুর্নীতির সূতিকাগার। আদর্শহীন রাজনীতি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়। দলের ভেতরের দুর্নীতিবাজদের দমন করার পাশাপাশি আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি দমনে সরকারকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও গ্রহণ করতে হবে, যা দেখে কেউ দুর্নীতি করতে সাহস না পান।

ইতিহাস যেমনিভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে চিরঞ্জীব করেছে, তেমনি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় শেখ হাসিনা তার বাবার মতো চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সরকার আসবে সরকার যাবে। প্রধানমন্ত্রী আসবেন প্রধানমন্ত্রী যাবেন। জাতির পিতা একবারই আসেন। তিনি আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র ও লাল-সবুজের পতাকা রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা একজনই হন, তিনি শেখ হাসিনা।

খবরটি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

বিজ্ঞাপন

Laksam Online Shop

first online shop in Laksam

© All rights reserved ©nakshibarta24.com
কারিগরি সহায়তায় বিডি আইটি হোম